ফের খবরের শিরোনামে আরজি কর হাসপাতাল। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ছেলেকে দেখতে গিয়ে লিফটে আটকে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে টালা থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনে। মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় দমদমের বাসিন্দা। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ছেলেকে দেখতে স্ত্রী এবং অন্য ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে লিফটে করে পাঁচতলায় যাচ্ছিলেন তিনি।
সেই সময় লিফটে কোনও অপারেটর ছিল না বলেই অভিযোগ। এরপর আচমকাই লিফট বিকল হয়ে যায় এবং তিনজনই ভিতরে আটকে পড়েন। পরে লিফট কেটে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় অরূপবাবুর। স্ত্রী এবং অন্য ছেলে সুস্থ আছেন বলেই জানা গিয়েছে।
- ঘटनাটি হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনে ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
- অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্ত্রী ও অন্য ছেলেকে নিয়ে লিফটে পাঁচতলায় উঠছিলেন।
- লিফটে কোনও অপারেটর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।
- লিফটটি উপরে ওঠার বদলে নীচে নেমে আসে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
- তিনজনকেই পরে লিফট কেটে উদ্ধার করা হয়।
- উদ্ধারের পর অরূপবাবুর মৃত্যু হয়, যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে টালা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে লিফট বিকল হল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঠিক কীভাবে হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনার পর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের দাবি, লিফটে কোনও অপারেটর ছিল না এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণেরও অভাব ছিল। তাঁদের অভিযোগ, সেই কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিপোর্ট সামনে এলেই বোঝা যাবে, এটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে।
অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। আরজি কর হাসপাতালকে ঘিরে ফের একবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে এই রহস্যমৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসতে পারে।
