পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে জ্বালানি সরবরাহে চাপ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের সংকটের পর এবার এক ধাক্কায় বাড়ানো হলো অটো LPG-র দাম। শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন দর। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় শহরের পরিবহণ খরচ ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অটোচালকদের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে জ্বালানির খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে পুরনো ভাড়ার কাঠামোয় গাড়ি চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন দাম ঘোষণার পর থেকেই ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
নতুন দাম কত হলো
কয়েক দিন আগেও অটো LPG-র দাম ছিল লিটার প্রতি ৫৭.৬৮ টাকা। প্রথম দফায় ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সেই দর দাঁড়ায় ৬২.৬৮ টাকা। এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে অটো LPG-র নতুন দাম হয়েছে লিটার প্রতি ৭০.৬৮ টাকা।
| পর্যায় | দাম | পরিবর্তন |
|---|---|---|
| আগের দাম | ₹57.68 প্রতি লিটার | মূল দর |
| প্রথম দফা বৃদ্ধির পর | ₹62.68 প্রতি লিটার | ₹5 বৃদ্ধি |
| দ্বিতীয় দফা বৃদ্ধির পর | ₹70.68 প্রতি লিটার | ₹8 বৃদ্ধি |
- এক সপ্তাহের মধ্যে মোট বৃদ্ধি হয়েছে লিটার প্রতি ১৩ টাকা
- শুক্রবার সকাল থেকেই নতুন দর কার্যকর হয়েছে
- অটোচালকদের প্রতিদিনের জ্বালানি খরচ এক ধাক্কায় বেড়ে গেল
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে কেন বাড়ছে চাপ
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশীয় LPG বাজারেও। বাণিজ্যিক জ্বালানির সরবরাহে টান তৈরি হওয়ায় শহরের পরিবহণ খাত এখন সবচেয়ে বেশি চাপে।
এর প্রভাব শুধু অটোচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় হোটেল ও রেস্তরাঁগুলিও সমস্যায় পড়ছে। অনেক জায়গায় পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, রান্নার গ্যাস বুকিং করেও সময়মতো ডেলিভারি পাওয়া যাচ্ছে না।
পাম্পে লম্বা লাইন, রোজগারেও টান
শহরের একাধিক পাম্পে সারাদিন অটোর লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক চালককে জ্বালানি ভরার জন্য ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের ট্রিপ কমে যাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে কমছে রোজগারও।
অটোচালকদের বক্তব্য, জ্বালানি ভরার জন্য এতটা সময় নষ্ট হলে দিনের হিসেব পুরো বদলে যায়। তার ওপর প্রতি লিটারে বাড়তি দাম যোগ হওয়ায় আগের আয়-ব্যয়ের সমীকরণ আর মিলছে না।
এবার কি বাড়তে চলেছে অটো ভাড়া
অটো ইউনিয়নগুলির একাংশ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, বাড়তি জ্বালানি খরচ দীর্ঘদিন নিজেদের কাঁধে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে এই বাড়তি বোঝা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরেই চাপতে পারে। শহরের বিভিন্ন রুটে আগেই ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর নজির ছিল। এখন নতুন করে ৮ টাকা দাম বৃদ্ধির পর দ্বিতীয় দফার ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।
অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ আরও দ্রুত বাড়বে। অফিসযাত্রী, ছোট ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।
- জ্বালানির খরচ দ্রুত বেড়ে গেছে
- পাম্পে লাইনে দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে
- প্রতিদিনের ট্রিপ কমে যাওয়ায় আয় কমছে
- পুরনো ভাড়ার কাঠামোয় চলা কঠিন হয়ে পড়ছে
সবচেয়ে বেশি চাপে কারা
যাঁরা প্রতিদিন অটোয় ভরসা করে অফিস, স্কুল, বাজার, স্টেশন বা হাসপাতাল যাতায়াত করেন, তাঁদের মাসিক খরচে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। শহুরে যাতায়াতে অটো এখনও বহু মানুষের প্রধান ভরসা। তাই ভাড়া বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
শুধু যাত্রী নয়, স্থানীয় ছোট ব্যবসা ও পরিষেবা খাতেও এর প্রভাব পড়বে। কারণ স্বল্প দূরত্বের পরিবহণ খরচ বেড়ে গেলে তার ঢেউ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেও পৌঁছে যায়।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত না কমলে LPG এবং অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন থাকতে পারে। ফলে বাণিজ্যিক জ্বালানি খরচে চাপ বজায় থাকার আশঙ্কাই এখন বেশি।
জরুরি ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ চালানো হলে পরিবহণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে অটোচালকদের খরচ যেমন বাড়বে, তেমনই যাত্রীভাড়াও নতুন সমীকরণে পৌঁছতে পারে।
শেষ কথা
অটো LPG-র দামে এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার বৃদ্ধির ঘটনা স্পষ্ট করে দিল, জ্বালানি সংকট এখন আর শুধু বাজারের পরিসংখ্যান নয়—তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শহরের রাস্তায়, অটোচালকদের রোজগারে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই চাপ আগামী দিনেও আরও বাড়তে পারে।
