৫ মিনিটেই গঙ্গাসাগর! ৪.৭৫ কিমি মেগা সেতুর নকশা প্রকাশ্যে, শুরু নির্মাণ প্রস্তুতি
বহুদিনের অপেক্ষার অবসান। মুড়িগঙ্গার উপর গড়ে উঠতে চলা গঙ্গাসাগর সেতুর প্রস্তাবিত নকশা প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই সেতু তৈরি হলে যেখানে আগে কাকদ্বীপ থেকে কচুবেড়িয়া যেতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে তা কমে দাঁড়াবে মাত্র ৫ মিনিটে।
চলতি বছর গঙ্গাসাগরে এই সেতুর শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় সাহায্য না মেলায় রাজ্য নিজ উদ্যোগেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু?
এতদিন কাকদ্বীপ থেকে সাগরদ্বীপ যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল মুড়িগঙ্গা নদী পার হওয়া। স্টিমার ও নৌকার উপর নির্ভরশীল এই যাত্রা বর্ষাকালে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠত।
পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা—সবার জন্যই এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল সময়সাপেক্ষ ও অনিশ্চিত। তাই স্থায়ী সমাধান হিসেবে এই সেতুর পরিকল্পনা সামনে আসে।
বর্তমান সমস্যার মূল দিক
নির্মাণে কারা, কোথায় শুরু কাজ?
এই মেগা প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ নির্মাণ সংস্থা লারসন অ্যান্ড টুবরো (L&T)। ইতিমধ্যেই কাকদ্বীপের লট-৮ এলাকায় প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।
উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সেতুর নকশা, স্তম্ভের বিন্যাস ও স্থায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংস্থার দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।
প্রাথমিক কাজের অগ্রগতি
সময় কমে কী বদলাবে?
এই সেতু চালু হলে শুধু সময়ই নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যেতে পারে। গঙ্গাসাগর মেলায় যাতায়াত সহজ হবে, পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে এই উন্নয়নের মাঝেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। বিশেষ করে ইরান–ইজরায়েল উত্তেজনায় তেলের বাজারে অস্থিরতা, ভারতের উপর প্রভাব কতটা — বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে এই ধরনের বড় অবকাঠামো প্রকল্প ও পর্যটন খাতে।
