Stock Market Crash! ইরান যুদ্ধের প্রভাবে 12 লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি

মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা উত্তেজনা, তেলের দামের উত্থান এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার জেরে বড় ধস নামল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সেনসেক্স ও নিফটিতে তীব্র পতনে কয়েক মিনিটেই উধাও ১২.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা।

8 Min Read
Market Shock | Geopolitical Impact

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় কেঁপে উঠল ভারতীয় Stock Market, কয়েক মিনিটেই উধাও ১২.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই দালাল স্ট্রিটে বড় ধস। সেনসেক্সে প্রায় ২,৪০০ পয়েন্ট পতন, নিফটিতেও তীব্র চাপ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা সংঘাত, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাই এই আতঙ্কের মূল কারণ।

বাজার খোলার পর অল্প সময়ের মধ্যেই BSE Sensex প্রায় ২,৪০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়। একই সময়ে Nifty 50 সূচকও ৬৯২.৯০ পয়েন্ট কমে ২৩,৭৫৩.৮৫-এ পৌঁছে যায়। মাত্র ১০ মিনিটে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১২.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা বাজার মূলধন উধাও হয়ে যায়।

Sensex পতন

২,৪০০

Nifty পতন

৬৯২.৯০

Nifty Level

২৩,৭৫৩.৮৫

মোট ক্ষতি

১২.৩৯ লক্ষ কোটি

Stock Market

বাজারে ধস নামল কেন?

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় Stock Market। আন্তর্জাতিক স্তরে যখন যুদ্ধ বা বড় ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন। তার ফলেই বাজারে হঠাৎ বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।

এই ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স ও নিফটিতে বড় পতন দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন শুধুমাত্র ভারতীয় Stock Market অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, তেলের দাম, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর সম্ভাব্য চাপ—সব কিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

মাত্র ১০ মিনিটে ১২.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা উধাও

বাজারের এই আকস্মিক পতনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বিনিয়োগকারীদের সম্পদমূল্যে। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১২.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা Stock Market থেকে মুছে যায়। Bombay Stock Exchange-এ তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন কমে প্রায় ৪৩৭ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

এই ধরনের দ্রুত পতন সাধারণত বাজারে আতঙ্কের মাত্রা কতটা বেশি, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ এটি শুধুই স্বাভাবিক ওঠানামা নয়, বরং এক ধরনের panic selling-এর ছবি।

তেলের দাম বাড়ায় কেন বাড়ছে আতঙ্ক?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ে জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তোলে।

তেলের দাম বাড়লে ভারতীয় অর্থনীতির একাধিক খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ ভারত এখনও বড় অংশে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি মানে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ, জ্বালানি ব্যয় এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক চাপ একসঙ্গে বেড়ে যাওয়া।

এভিয়েশন খাত সবচেয়ে বেশি চাপে

সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে বিমান খাতের শেয়ার। কারণ বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ জ্বালানির সঙ্গে যুক্ত। অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়লে এয়ার টারবাইন ফুয়েলের খরচও বেড়ে যায়, যার ফলে লাভের মার্জিনে বড় চাপ পড়ে।

InterGlobe Aviation বা ইন্ডিগোর শেয়ারের দাম প্রায় ৭.৭ শতাংশ কমে ৪,০৬৫.৫০ টাকার আশেপাশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি SpiceJet-এর শেয়ারেও প্রায় ৫ শতাংশ পতন হয়েছে। বাজারের ভাষায়, oil-sensitive sector হিসেবে এভিয়েশন সবার আগে ধাক্কা খায়।

ব্যাংকিং শেয়ারেও বড় চাপ

শুধু বিমান খাত নয়, ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল সেক্টরেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। State Bank of India-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৫.৯ শতাংশ কমেছে। Shriram Finance প্রায় ৫.৬ শতাংশ, Axis Bank প্রায় ৩.৭ শতাংশ এবং ICICI Bank প্রায় ৩.৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যখন সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন ব্যাংকিং শেয়ারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়। কারণ ব্যাংকিং সেক্টরকে বাজারের growth indicator হিসেবে দেখা হয়। ফলে সামগ্রিক risk-off mood শুরু হলে এই শেয়ারগুলোও চাপে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খাওয়া শেয়ার

সংস্থা / খাত পতন বিশ্লেষণ
InterGlobe Aviation (IndiGo) -৭.৭% জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কায় বড় চাপ
SpiceJet -৫% তেলের উচ্চ দামে এভিয়েশন সেক্টর দুর্বল
State Bank of India -৫.৯% বাজারজুড়ে risk-off sentiment
Shriram Finance -৫.৬% ফিনান্স শেয়ারে বিক্রির চাপ
Axis Bank -৩.৭% ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্বলতা
ICICI Bank -৩.৬% বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান

এখন কোন দিকেই নজর থাকবে?

আগামী দিনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের গতিপ্রকৃতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরবর্তী মোড়—এই তিনটি বিষয়ই ভারতীয় শেয়ার বাজারের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।

যদি তেলের দাম আরও বাড়ে এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। আর যদি পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, তাহলে বাজারে সাময়িক স্থিতি ফিরতে দেখা যেতে পারে।

সংক্ষেপে, এই পতন দেখিয়ে দিল—ভারতীয় Stock Market এখন আর শুধু দেশীয় খবরের উপর নির্ভর করে না; বৈশ্বিক সংঘাত, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের স্রোত—সবই এখন দালাল স্ট্রিটের গতিপথ নির্ধারণ করে।

Quick Takeaways

  • সেনসেক্সে প্রায় ২,৪০০ পয়েন্ট পতন
  • নিফটি ৫০ নেমে ২৩,৭৫৩.৮৫ স্তরে
  • ১০ মিনিটে ১২.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে উধাও
  • তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় এভিয়েশন শেয়ার সবচেয়ে বেশি চাপে
  • ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল সেক্টরেও বড় ধরনের বিক্রি দেখা গেছে

আরো পড়ুন: রাশিয়ার তেল কিনবে ভারত? ট্রাম্পের ট্যারিফ হুমকির মাঝেই বড় প্রশ্ন

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *