Madhyamik Exam 2026: AI নকলের নতুন চ্যালেঞ্জ, কড়া পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ পর্ষদের
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এ নকল রুখতে এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। পর্ষদের দাবি, চলতি বছরে পরীক্ষার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নকলের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
শনিবার ভূগোল পরীক্ষার দিন রাজ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে মোবাইল ফোনসহ মোট ১২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ধৃতদের মধ্যে অনেকেই AI অ্যাপ ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল। এমনকি একজন পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের অংশ AI টুলে ইনপুট করে সেই উত্তর অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মোট বাতিল ৩১
পর্ষদ সূত্রে খবর, এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ফলে চলতি বছরে নকলের কারণে বাতিলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩১ জনে।
জেলা অনুযায়ী ধরা পড়ার ঘটনা—
- গার্ডেনরিচ: ৪ জন
- কোচবিহার: ২ জন
- উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান: ১ জন করে
কীভাবে হচ্ছিল নকল?
পর্ষদের আধিকারিকদের মতে, পরীক্ষার্থীরা নানা কৌশলে মোবাইল লুকিয়ে কেন্দ্রে ঢুকছিল।
- কেউ শৌচালয়ে ফোন রেখে দিচ্ছিল
- কেউ জুতো বা অন্তর্বাসে লুকিয়ে আনছিল
- এক পরীক্ষার্থীকে ইনভিজিলেটর হাতেনাতে ধরে ফেলেন
আরও একটি নতুন কৌশলও সামনে এসেছে। কিছু পরীক্ষার্থী পুরনো প্রশ্নপত্র সঙ্গে নিয়ে এসে শৌচালয়ে যাওয়ার অজুহাতে বাইরে গিয়ে AI অ্যাপের সাহায্যে নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর জেনে আবার পরীক্ষাকক্ষে ফিরছিল।
পর্ষদ সভাপতির মন্তব্য
পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,
“এ বছর নকলের ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। দলগতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল করার এই প্রবণতা নতুন এবং উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির এই অপব্যবহার পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় হুমকি।
শিক্ষক বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের একটি স্কুলে ইতিহাস পরীক্ষার সময় এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করার অভিযোগ ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে পর্ষদ।
কী কী নিষিদ্ধ?
পরীক্ষা হলে নিম্নলিখিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—
- মোবাইল ফোন
- স্মার্টওয়াচ
- ক্যালকুলেটর
- ইয়ারবাড বা ব্লুটুথ ডিভাইস
এ ধরনের কিছু পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হবে। ইনভিজিলেটরদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
পরীক্ষাকক্ষে শুধুমাত্র—
- অ্যাডমিট কার্ড
- রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট
- কলম
- স্বচ্ছ ক্লিপবোর্ড
নিয়ে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে ব্যাগ রাখার জন্য ক্লোকরুমের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
পরীক্ষার সামগ্রিক চিত্র
চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে মোট ৯,৭১,৩৪০ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিকে বসেছে।
- ছেলে: ৪,২৬,৭৩৩
- মেয়ে: ৫,৪৪,৬০৬
- তৃতীয় লিঙ্গ: ১ জন
রাজ্যের ২,৬৮২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা চলছে, যার মধ্যে ৯৪৫টি মূল কেন্দ্র এবং ১,৭৩৭টি সাব-সেন্টার রয়েছে।
এছাড়াও ৫৫ জন পরীক্ষার্থী হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিয়েছে এবং অসুস্থ দুই পরীক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় আলাদা পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।
