
হরমুজ সংকট: রাশিয়ার তেল নৌবহর ভারতের দ্বারে
দুয়ারে ‘বন্ধু’ রাশিয়া, ট্রাম্পের চোখ রাঙানি পেরিয়ে নয়াদিল্লি কি রুশ তেল কিনবে?
কী ফ্যাক্টস: ভারতের তেল সংকট
হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর ভারতে তেল আমদানির ধমনী ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। ইরানের তেহরান চীন ও রাশিয়ার জন্য প্রণালী খোলা রেখেছে বললেও, ভারতের জন্য এটি বন্ধ। ফলে দেশে তেল সংকট আসন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের আবহে ফের ভারতের পাশে দাঁড়াতে তৈরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতের জলসীমার কাছে ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে হাজির হয়েছে মস্কো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চাইলেই সাহায্যে রাজি পুতিন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি রয়েছে—রাশিয়া থেকে তেল কেনা যাবে না। এবার কী করবেন মোদী? অন্যদিকে, কংগ্রেসের খোঁচা: ‘পাপা নেহি মানেঙ্গে।’
রাশিয়ার প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল ভারতের জলসীমার আশপাশেই রয়েছে। দিল্লিতে তা দিতে রাজি মস্কো। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেগুলি ভারতে পৌঁছে যেতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। সেখান দিয়ে কোনও জাহাজ গেলেই তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা। বুধবারও একটি জাহাজে হামলা হয়েছে। ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে হরমুজের মাধ্যমে। হরমুজ প্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে দিল্লিকে।
মস্কো আগেই জানিয়েছে, ভারতের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত তারা। রাশিয়া সাফ জানিয়েছে, ভারতের জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা হলে রাশিয়া চাহিদা পূরণ করতে তৈরি রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের জলসীমার আশপাশে পণ্যবাহী জাহাজের একটি বহর রয়েছে। তাতে রাশিয়ার তেল রাখা আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। ওই তেলের গন্তব্যপথ বদল করতে তৈরি রাশিয়া, এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
রুশ তেল কি ভারত কিনবে? এই প্রশ্ন এখন নয়াদিল্লির রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ না-করলে ভারতের উপর শুল্কের বোঝা চাপবে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। শর্ত রয়েছে রুশ তেল নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়ার তেল কিনলে আমেরিকা না-খুশ হবে।
কংগ্রেসের কটাক্ষ: ‘পাপা নেহি মানেঙ্গে’
কংগ্রেসের কটাক্ষ, মোদী রুশ তেল কিনতে চাইলেও ট্রাম্প অনুমতি দেবেন না। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেড়ার কটাক্ষ, “পুরনো বন্ধু রাশিয়া আমাদের সাহায্যে প্রস্তুত। কিন্তু পাপা নেহি মানেঙ্গে।” বলা বাহুল্য, পাপা বলতে ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করেছেন কংগ্রেস নেতা। এই কটাক্ষ ভারতের বৈদেশিক নীতির দ্বিধায় বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
এই তেল সংকটের মধ্যে ভারতের সিদ্ধান্ত কী হবে? রাশিয়া-ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব কি ট্রাম্পের চাপ পেরিয়ে যাবে? Daily Bangla লাইভ আপডেট দেবে।
