West Bengal Governor Resignation: ভোটের মুখে বড় চমক, পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে বড় চাঞ্চল্য। মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বড় প্রশাসনিক চমক। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন। অস্থায়ী দায়িত্বে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি দায়িত্ব নিতে পারেন।
রাজ্যের প্রশাসনিক অলিন্দে হঠাৎ করেই তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস আচমকাই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের কারণ সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে সময়টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কারণ, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই সময়েই রাজ্যপালের এই পদত্যাগ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লিতে গিয়ে পদত্যাগ, জল্পনা তুঙ্গে
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতায় নয় বরং দিল্লিতে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। কিন্তু সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁর এই পদত্যাগকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখছেন।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজভবন বা কেন্দ্র সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ঘটনার টাইমলাইন
-
১৭ নভেম্বর ২০২২
সিভি আনন্দ বোস পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। -
২০২৪-২০২৫
রাজভবন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একাধিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে আসে। -
২০২৬ (নির্বাচনের আগে)
হঠাৎ করেই দিল্লিতে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সিভি আনন্দ বোস। -
বর্তমান পরিস্থিতি
তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবিকে পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
অস্থায়ী দায়িত্বে আর এন রবি
রাজ্যপালের পদ খালি হওয়ায় প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর এন রবিকে।
আর এন রবি বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এবং দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন। সিবিআইয়ের মতো সংস্থায় তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তামিলনাড়ুর দায়িত্বের পাশাপাশি এবার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, তাঁর তত্ত্বাবধানেই সম্ভবত আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এগোবে।
মূল পয়েন্ট
- মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস
- ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তিনি রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন
- দিল্লিতে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর
- অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন আর এন রবি
- বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে
রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া
রাজ্যপালের পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। শাসক ও বিরোধী—দুই শিবির থেকেই নানা মন্তব্য সামনে এসেছে।
তৃণমূলের অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন,
“বিজেপির অঙ্গুলিহেলন ছাড়া এটা হতে পারে না। বিজেপি বিভিন্ন স্তরে এই ধরনের কাণ্ডকারখানা করে থাকে। এরপর যদি দেখা যায় রাজভবনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আরএসএসের কাউকে নিয়ে আসা হয়েছে, তবে আমি অবাক হব না।”
বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যপালের পদত্যাগের পিছনে নিশ্চয়ই কোনও কারণ রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে তারপরেই তিনি মন্তব্য করবেন।
বিজেপির বক্তব্য
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন,
“উনি যদি পুরো মেয়াদটা রাজ্যপাল হিসেবে থাকতেন তাহলে সবাই আনন্দ পেত। তৃণমূল যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে সেটা করাই ওদের কাজ। রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি। তিনি পদত্যাগ করেছেন। এখন নতুন কে আসছেন সেটাই দেখার।”
সিপিএমের মন্তব্য
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন,
“কী কারণে পদত্যাগ করলেন, উনি নিজে করলেন নাকি করানো হল—সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।”
এরপর কী হতে পারে?
রাজ্যপালের পদত্যাগের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গের নতুন স্থায়ী রাজ্যপাল কে হতে চলেছেন। কেন্দ্র সরকার খুব শিগগিরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকায় অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রশাসনিক দিক তাঁর তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
তবে সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগের আসল কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। ফলে আগামী কয়েকদিন এই বিষয়টি ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
