কোরিয়ান লাভ গেম বিপদ: প্রেমের নামে অনলাইন টাস্ক-গেমে বাড়ছে শিশুদের ঝুঁকি
রাত প্রায় ২টো, গাজিয়াবাদের ভারত সিটি সোসাইটির ন’তলায় তিন বোন তাদের ঘরে ছিল। বাইরে ছিল নীরবতা, কিন্তু তাদের হৃদয়ে একটা খেলার সুর বাজছিল। ১২ বছর বয়সী পাখি, ১৪ বছর বয়সী প্রাচী এবং ১৬ বছর বয়সী বিশিকা হাত ধরে বারান্দার দিকে হেঁটে গেল।
তারপর, এক দৌড়ে, তারা লাফ দিল। পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিৎকার প্রতিধ্বনিত হয়। সকাল নাগাদ, পুরো পাড়া হতবাক হয়ে গেল।
পুলিশ যখন পৌঁছায়, তখন ঘরে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। তাতে স্পষ্ট লেখা ছিল, ‘‘মা, বাবা, দুঃখিত… এখন তোমরা বুঝতে পারবে আমরা এই খেলাটি কতটা ভালবাসি, কোরিয়ান লাভ গেম।’’
পরিবারের সদস্যরা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে এই বোনেরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। তারা একসঙ্গে খেত, স্নান করত এবং ঘুমাত,
কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে তারা তাদের মোবাইল ফোনে যেন আটকে গিয়েছিল। তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল এবং সারাদিন একই খেলায় মগ্ন ছিল।
তাদের বাবা গেমটি মুছে ফেলার এবং তাদের ফোন কেড়ে নেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিন মেয়ে এতে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এই তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর, মানুষ যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করছে তা হল কোরিয়ান লাভ গেমটি আসলে কী এবং এটি কীভাবে এত বিপজ্জনক হতে পারে।
কোরিয়ান লাভ গেম কী?
এটি কোনো নির্দিষ্ট অফিসিয়াল গেম নয়। বরং বিভিন্ন অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চালানো একটি রোম্যান্টিক চ্যাট-ভিত্তিক অভিজ্ঞতা, যেখানে ব্যবহারকারী একটি ভার্চুয়াল সঙ্গীর সাথে যুক্ত হয় এবং সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বিভিন্ন “টাস্ক” সম্পন্ন করতে হয়।
- ভার্চুয়াল প্রেমিক বা সঙ্গীর সাথে নিয়মিত চ্যাট
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট কাজ বা চ্যালেঞ্জ
- টাস্ক ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে ওঠা
- ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ারের চাপ
কেন এই ধরনের গেম বিপজ্জনক?
- মানসিক নির্ভরতা ও আসক্তি তৈরি করে
- পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়
- গোপন আচরণ বাড়ায়
- কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বা আত্ম-ক্ষতির মতো কাজ করতে প্রভাবিত করতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গেমে আবেগগত সংযোগ তৈরি করে ব্যবহারকারীকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও দ্রুত প্রভাব ফেলে।
সতর্কতার লক্ষণ
- অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও রাতে জেগে থাকা
- পড়াশোনায় অনীহা
- পরিবারের সাথে কম কথা বলা
- ফোন লুকিয়ে ব্যবহার করা
- হঠাৎ আচরণগত পরিবর্তন
অভিভাবকদের করণীয়
- সন্তানের সাথে খোলামেলা কথা বলুন
- স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন
- অজানা অ্যাপ ইনস্টল নিয়ন্ত্রণ করুন
- রাতে ফোন ব্যবহার সীমিত করুন
- সন্দেহজনক আচরণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
শেষ কথা
ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে প্রযুক্তির পাশাপাশি সচেতনতারও প্রয়োজন। এখনই সময় শিশুদের অনলাইন ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়ার।
