মার্কিন–ইজরায়েল হামলায় নিহত আলি খামেনেই? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা

US–Israel Strike Row: খামেনেই নিহতের খবর, বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা

3 Min Read

অফিসে কাজ করার সময় ভয়াবহ হামলা! খামেনেই নিহতের দাবি, পরিবারও প্রাণ হারিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা চরমে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। শুধু তিনিই নন, এই হামলায় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর গোটা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অফিসে কাজ করার সময় হামলা

ইরানের সরকারি সংবাদসূত্রের দাবি, হামলার সময় খামেনেই তাঁর অফিসে বসে কাজ করছিলেন। শনিবার ভোরের দিকে আচমকা সেখানে বোমা আছড়ে পড়ে। সেই হামলাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনিও নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা এই হামলাকে “কাপুরুষোচিত” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি

ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) খামেনেইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে “ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র পাল্টা হামলার” হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ইরানে খামেনেইয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বক্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে খামেনেইয়ের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এটি “ইরানি জনগণের জন্য একটি নতুন সুযোগ”। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত আরও এক সপ্তাহ হামলা চলতে পারে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও দাবি করেছেন, খামেনেইকে লক্ষ্য করেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয় এবং তাঁর পুরো এলাকা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তেহরানে ব্যাপক হামলা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

শনিবার সকাল থেকেই ইরানের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে, একের পর এক বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় ব্যবহার করা হয় বোমা, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র। পরে জানা যায়, এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীও সরাসরি সহায়তা করেছে।

ইরানের পাল্টা হামলা, বিস্তৃত হচ্ছে সংঘাত

এই হামলার জবাবে ইরান শুধু ইজরায়েল নয়, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই ও আবু ধাবিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার কারণে বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয়।

এছাড়া কাতার ও সৌদি আরবেও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির জেরে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এবং তার পরবর্তী প্রতিশোধের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *